10 মার্চের ডিএ ধর্মঘটের সমর্থনে সমস্ত অনুপস্থিত সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার প্রক্রিয়া শুরু, কর্মজীবনে ছেদ! বিস্তারিত দেখুন।

বিগত ১০ মার্চের মহার্ঘ ভাতা প্রাপ্তি সহ অন্যান্য দাবী জানিয়ে আন্দোলনের অংশ হিসেবে ডিএ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল রাজ্যের প্রায় ৬০ টি সংগঠনের মিলিত মঞ্চ, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। কিন্তু রাজ্য সরকার রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মবিরতির ঘোর বিরোধী। আন্দোলনের আগেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রাজ্য সরকার সাবধান করেছিল যে, বিশেষ কারণ ছাড়া নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে কাটা হবে মাইনে। তারই সাথে সার্ভিস ব্রেক (ডাইস-নন) সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ করা ছিল।

Advertisement

ডিএ ধর্মঘট নিয়ে সরকারি কর্মীদের মাইনে কাটতে পে-বিল পাঠানোর শেষ তারিখ পিছিয়ে গেল।

ডিএ ধর্মঘটের দিন অফিস যাননি? সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার শুরু করে দিল বিজ্ঞপ্তি অনুসারে প্রক্রিয়া।রাজ্য সরকার কর্মীদের ডিএ বৃদ্ধি করছে না এবং বকেয়া ডিএ মেটাচ্ছে না, এই অভিযোগে ধর্মতলায় সরকারি কর্মীরা অবস্থান বিক্ষোভ করছেন। পাশাপাশি চলছে অনশন। ইতিমধ্যেই গত ১০ মার্চ রাজ্যজুড়ে ধর্মঘট পালনও করেন তাঁরা। ডিএ ধর্মঘট অসফল করতে রাজ্য সরকারের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, বিশেষ কয়েকটি শর্ত ছাড়া ধর্মঘটের দিন যদি সরকারি কর্মচারীরা অফিসে অনুপস্থিত থাকেন, তবে ডিএ ধর্মঘট করার ফলে তাঁদের বেতন কেটে নেওয়া হবে এবং ছেদ পড়বে কর্মজীবনে।

ধরানো হবে শো-কজ নোটিশও। সেখানে সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারলে কর্মীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিল তৃণমূল সরকার। জারি করা নোটিশ অনুসারে, যাঁরা ১০ মার্চ অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন, তাঁদের অনেকেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শো-কজের নোটিশ পান। ইতিমধ্যেই অনেকে সেই নোটিশের উত্তরও দিয়েছেন।

Ads

তবে সরকারি কর্মীরা বারবার প্রচার করেন, ধর্মঘটের দিন অনুপস্থিত থাকলে, রাজ্য সরকারবড়জোর একদিনের বেতন কাটতে পারবে। কিন্তু কর্মচারীদের কর্মজীবনে কোনো ছেদ ফেলতে পারবে না। বাস্তবএ তাই-ই হল। এই ডিএ ধর্মঘট প্রসঙ্গে, শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের তরফে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে বেশ কিছু কথা বলা হয়েছে।

Advertisement

সেক্ষেত্রে ডিএ ধর্মঘট নিয়ে বলা হয়েছে, ‘ধর্মঘটে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক-শিক্ষা কর্মী, সরকারি কর্মচারীদের একদিনের বেতন কেটে নেওয়া, সার্ভিস ব্রেক, ডাইস-নন ইত্যাদির হুমকি দেওয়া হলেও শেষপর্যন্ত শুধুমাত্র একদিনের বেতন কাটার নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। আমরা আগেই বলেছিলাম, সরকার ভয় দেখানোর জন্য নোটিশ দিয়েছিল।’

Advertisement

বিজ্ঞপ্তিতে আরও লেখা আছে,‘সরকারের এই পদক্ষেপে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী সরকারি কর্মচারীগণ বিন্দুমাত্র ভীত নয়। বরং আগামীতে প্রাপ্ত বকেয়া ডিএ প্রদান, শূন্যপদে স্বচ্ছভাবে স্থায়ী নিয়োগ এবং যোগ্য অস্থায়ী কর্মীদের বেতন কাঠামো-সহ স্থায়ীকরণের দাবিতে আন্দোলন আরও দুর্বার হবে। লক্ষ-লক্ষ কর্মচারীর একদিনের বেতন কেটে নিয়ে এই আন্দোলনকে কোনওভাবেই দমানো যাবে না।’

Ads

সাপ্তাহিক রাশিফল (20-26শে মার্চ, 2023) – মেষ থেকে মীন, পার্ট-1 দেখে নিন।

ধর্মঘটের দিন যাঁরা অনুপস্থিত ছিলেন, সরকার তাঁদের বেতন কেটেছে, এই প্রসঙ্গে ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী সংবাদমাধ্যমে জানান, ‘বেতন কাটার বিষয়ে আমরা কোনওদিন ভীত ছিলাম না। একদিনের বেতন কেটে নিয়ে কিছুই করতে পারবে না রাজ্য সরকার। এমনিতেই (কেন্দ্রীয় হারে) ডিএ না দেওয়ায় আমরা আদতে ২০ দিনের বেতন পাই আমরা’।

আধার কার্ডে ভুল রয়েছে? কিম্বা নতুন করবেন? জেনে নিন আপনার বাড়ির পাশে আধার সেবা কেন্দ্রের ঠিকানা।

তিনি আরও বলেন যে, ‘রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা কোনওভাবে ভীত নন। বরং আন্দোলন আরও তীব্র হবে। অর্থাৎ, সরকারের এই পদক্ষেপ যে কর্মচারীদের আন্দোলনকে বিন্দুমাত্র প্রভাবিত করতে পারেনি, তা স্পষ্ট। বরং সরকারের এই বিরোধী মনোভাবের জেরে পরবর্তীতে ডিএ আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়তে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
Written by Parna Banerjee.

সম্পাদক

Leave a Comment

Advertisement