“এক দেশ এক DA” – AICPI মেনে ডিএ বাধ্যতামুলক হচ্ছে সারা দেশে।

রাজ্য সরকার হোক বা কেন্দ্র সরকার, DA তাদের আইনি অধিকার।

রাজ্যের টাকা না থাকলে DA দেওয়া যাবে না। তবে অন্যান্য সব কিছুই চলবে। রাজ্যের এমন যুক্তিকে কোলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ কার্যত নাকজ করে দিয়ে বলেছেন, কেন্দ্রের হারেই দিতে হবে DA. রায় অবমাননা করার জন্য হলফানামা দেবার নির্দেশ দিয়েছে কোলকাতা হাইকোর্ট।

Advertisement

সরকারি কর্মীদের অক্লান্ত নিরলস পরিশ্রমে কেন্দ্র – রাজ্য মিলিয়ে নানা প্রকল্প, সুযোগ – সুবিধা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য, যানবাহন ইত্যাদি বিষয়ক নানা সরকারি সুবিধা পৌঁছে যায় সাধারণ মানুষের দরবারে। সরকারি কর্মীরাই তাদের একাগ্রতা, নিষ্ঠা এবং দায়িত্বের সাথে সরকারকে পরোক্ষভাবে তুলে ধরে সাধারণ জনগণের কাছে।

সরকারি চাকরী পাওয়ার বিষয়টিও কিন্তু মুখের কথা নয়। বিশেষ ভাবে প্রস্তুতি নেবার পরেই একজন পায় সরকারি চাকরী। কর্মীদেরকে তাদের নিরলস পরিশ্রমের বিনিময়ে সরকার তাদের নির্দিষ্ট নিয়ম ঠিক করে রেখেছেন। সেই অনুযায়ী তাদের মাসিক মাইনে হয়ে থাকে। কারণ তা তাদের সাংবিধানিক অধিকার।

Ads

সম্প্রতি কোলকাতা হাইকোর্ট DA সংক্রান্ত এক মামলায় এই সাংবিধানিক অধিকারের কথা উল্লেখ করেছে। কিন্তু প্রায়শই ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যেই এই DA নিয়ে কর্মীদের ক্ষোভ রয়েছে অনেক। কর্মীরা তাদের এই দাবির জন্য মাঝে মাঝেই তাদের আন্দোলনকে তুলে ধরেন সরকারের কাছে। যা ন্যায্য অধিকার বা আইন সিদ্ধ সাংবিধানিক অধিকার – তার জন্য সরকারি কর্মীদের আন্দোলন কেন করতে হবে?

Advertisement

এই নিয়ে সারা ভারতবর্ষের রাজ্যগুলিতে কেন্দ্রের তুলনায় ভিন্ন ভিন্ন হারে DA প্রদান করা হয়ে থাকে। আর এই কেন্দ্র – রাজ্য DA এর ফারাক অনেক রাজ্যে ৭০% এর থেকেও বেশি। এই বৈষম্য সকল সরকারি কর্মীদের মনে অল্প বিস্তর প্রভাব ফেলে যা তাদের দৈনন্দিন জীবন যাপনে বিশেষ ভুমিকা পালন করে। নিয়ম হিসেবে সকল রাজ্যেই কেন্দ্রের হারে DA দেবার চেষ্টা করে থাকে।

Advertisement

বকেয়া ডিএ এর দাবিতে নতুন পদক্ষেপ নিল WB Govt Employee রা, কতটা চাপের মুখে সরকার?

এবারে আসুন জেনে নেই, ২০২২ সালের হিসেবে কেন্দ্রের সাথে দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলির ডিএ এর ফারাক কেমন? কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা এবার থেকে DA পাচ্ছেন ৩৮% হারে। সেক্ষেত্রে দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলিতে দেখলে দেখা যায় যে, বাম শাসিত কেরালা রাজ্যের কর্মীরা ২০২০ এর ১লা জুলাই এর হিসেবে পাচ্ছেন ৩১% ডিএ। ২০২২ সালের ১লা জুলাই এর হিসেবে তামিলনাড়ু রায়ের কর্মীরা পাচ্ছেন ৩৪ শতাংশ হারে।

Ads

২০২২ এর ১লা আগস্টের হিসেবে মধ্যপ্রদেশে ৩৪%, ২০২১ এর ৩১শে ডিসেম্বরের হিসেবে উত্তর প্রদেশে ৩১%, ২০২২ এর ১লা জানুয়ারি হিসেবে মহারাষ্ট্রে ৩১%, ২০২২ এর আগস্টের হিসেবে ছত্তিসগড়ে ২৮%, ২০২০ সালের জানুয়ারি এর হিসেবে ঝাড়খণ্ডে ২৮% ডিএ পাচ্ছেন। এছাড়াও কর্ণাটক রাজ্যে ২৭%, অন্ধ্র প্রদেশ ৩৮%, হরিয়ানা ২৭%, অসম ৩১%, অরুনাছল প্রদেশ ৩৪%, পাঞ্জাব ২৮%, ওড়িশা ৩৪%, তেলেঙ্গানা ১৭%, হিমাচল প্রদেশ ৩১%, মিজোরাম ১৭%, গোয়া ৩৪% হিসেবে ডিএ দিয়ে থাকে।

পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরি পেতে কত টাকা দিতে হবে, কত টাকায় চাকরি কনফার্ম, লিস্ট দেখে নিন।

এছাড়াও মেঘালয় রাজ্য তাদের সরকারি কর্মীদের ২২%, উত্তরাখণ্ড ৩৪%, কংগ্রেস শাসিত রাজ্য রাজস্থান ৩৪%, গুজরাট ২৮%, বিহারে ২৮%, নাগাল্যান্ডে ৩১% এবং সম্প্রতি মনিপুরে ২০২২ সালের জুন মাস থেকে ২১% হারে ডিএ দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ত্রিপুরা রাজ্যে DA বৃদ্ধি করা হল ৮%। এছাড়া সিকিমে রায় সরকারি কর্মীরা পাচ্ছেন ৩১% হারে ডিএ। সেক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের মেলে কেন্দ্রের সাথে শতকরা তুলনায় মাত্র ৭.৮৯ শতাংশ।

কিন্তু বাংলার নাম সব দিক থেকেই বিশ্ববন্দিত। প্রাচীনকাল থেকেই বাংলার বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, সাহিত্য, আন্দোলন, আবিষ্কার, মেধা- সবকিছুতেই নাম ছিল। আজও মুখ্যমন্ত্রীর কথায় শোনা যায় একটি ট্যাগ লাইন, ‘এগিয়ে বাংলা’। রাজ্যের নাম বদলে ‘বাংলা’ করলে রাজ্য তালিকায় ওপরে উঠবে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ – এমন বিষয়ে পর্যন্ত সরব হয়েছিল রাজ্য। তাহলে ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্য কেন ডিএ দেবার লিস্টে একেবারে শেষে? এবারে কি এই বিষয়েও এগোবে বাংলা? এমন আরও খবরের সন্ধান পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের সাথে থাকার অনুরোধ রইল। ধন্যবাদ।
Written by Mukta Barai.  

সম্পাদক

2 thoughts on ““এক দেশ এক DA” – AICPI মেনে ডিএ বাধ্যতামুলক হচ্ছে সারা দেশে।”

  1. If there is any financial problem with state government to give DA, sale the body parts of leaders of rolling party to arrange money for DA

    Reply
  2. I strongly feel that the present govt. Is for those who are most corrupt. It may be a club or political supporter like ex chief secretary. Her whims are the factor. We the people of Bengal are so unfortunate to have such a busty cultured cm. As a retired employee I feel to go for routine job for indefinite period till our demand is fulfilled. Specially we shouldn’t do election work arranged by State to collapse the govt. No bill for mla be raised.All outside tour by cm .cost of fuel be stopped.

    Reply

Leave a Comment

Advertisement