প্রাণধারা প্রকল্প – বাংলার মানুষের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর নতুন প্রকল্প, কি কি সুবিধা পাবেন, জেনে নিন।

বাংলার মানুষের জন্য একাধিক প্রকল্প নিয়ে এসেছে বর্তমান রাজ্য সরকার। আর প্রাণধারা প্রকল্প (Prandhara Scheme) তার মধ্যে অন্যতম। পশ্চিমবঙ্গের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের অধীনস্থ একটি প্রকল্প এটি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন 2015 সালে। তবে অনেকেই এই প্রকল্প সম্পর্কে জানেন না। তাই চলুন, এই প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

Advertisement

প্রাণধারা প্রকল্পটি কী?

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনে 2015 সালে এই প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল। ঘরে ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হয় এই প্রকল্পের মাধ্যমে (Packaged drinking water plant in West Bengal).
দেশের বিভিন্ন অংশে এখনও পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পাওয়া যায় না। এই সব সমস্যাকে পিছনে ফেলে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে বাংলার নাম, এই প্রকল্পের হাত ধরে। জল ধরো জল ভরো প্রকল্পের আঙ্গিকেই এই প্রকল্পটি, তবে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

Ads

প্রাণধারা প্রকল্পের উদ্দেশ্যঃ

এই সরকারি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল, রাজ্যের প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া।
প্রাণধারা প্রকল্পটি রাজ্যের জল সম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নতি দপ্তরের অধীনস্থ।
মূলত বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ও কার্যকরীভাবে জলের ব্যবহার সম্পর্কে জনগনের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। এরপরে ওই সংরক্ষিত জলকে অনেক বড় এলাকায় কৃষিকাজের জন্য ব্যবহার করা হয়। এর ফলে বৃষ্টির জলের মাধ্যমে খুব সহজেই কৃষিকাজ করা যাচ্ছে বর্তমানে।

Advertisement

প্রাণধারা প্রকল্পের সুবিধাঃ

2015 সালে শুরু হবার থেকেই ধীরে ধীরে রাজ্যের বিভিন্ন ব্লক লেভেলে পৌঁছে গেছে এই প্রকল্পটি। মিলেছে স্বীকৃতিও। ২০২১-এর আগস্ট মাসে প্রায় ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ২৫৬টি বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দিয়ে দেশের মধ্যে প্রথম হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ। শুধু বিশুদ্ধ জলই নয়, আর্সেনিক মুক্ত জল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলো রাজ্য সরকার।

Advertisement

এরপরে অবশ্য কোভিডের কারণে শুরু হয়ে যায় লকডাউন। তাই সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবরে কাজের গতি কিছুটা স্লহ হয়ে যায়। তবে নভেম্বরের শেষের দিকে প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার ৯৪৩টি বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দিয়ে পুনরায় দেশের মধ্যে প্রথম স্থান দখল করে নেয় পশ্চিমবঙ্গ। আর চলতি বছরে ফের নতুন করে এই প্রকল্প শুরু হতে চলেছে।

Ads
লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প - Lakshmir Bhandar Scheme

সরকারের উদ্যোগঃ

এদিকে, পানীয় জল ত্রাণ সরঞ্জাম হিসাবে দেওয়া শুরু হয়েছে সরকারের তরফে। চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ রায়পুর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট কমপ্লেক্স বি আই Such এক লিটার ফিল্টারড পানীয় জল ‘প্রাণধারা’ প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুলের যে ওয়ার্কিং আওয়ার, সেই সময়ে স্কুলের প্রতিটি কলে পাওয়া যাবে। আর এই কল গুলো ওয়াটার ভেন্ডিং মেশিনের সাথে যুক্ত থাকবে।

আরও পড়ুন, রান্নার গ্যাস বুকিং এর নতুন নম্বর, গ্যাস পেতে হলে এই নম্বর এখুনি সেভ করুন।

স্বল্প মূল্যে পানীয় জল

বর্তমানে রাজ্যের প্রচুর মানুষ ২০ লিটারের জল ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকার মধ্যে কিনে খান। তবে এই জল স্বাস্থ্যকর কিনা সেই বিশ্যে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তবে রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ ও নিরাপদ জল মিলবে। প্রাণ ধারা প্রকল্পের এই 1 লিটার জলের দাম পড়বে 1 টাকা। বর্তমানে, রাজ্যের জনস্বাস্থ্য প্রযুক্তি বিভাগ এই ১০০ টি স্কুলে এই জলের একটি ‘পাইলট প্রকল্প’ চালু করছে।

জানানো হয়েছে, প্রকল্পটি সাফল্য পেলে রাজ্যের অন্যান্য সমস্ত স্কুলেও এই প্রকল্পটি লঞ্চ করা হবে। আর এই মেশিনের নাম দেওয়া হয়েছে প্রাণধারা ভেন্ডিং মেশিন। এই বিষয়ে রাজ্যের মন্ত্রী জানান, রাজ্যের জল বিক্রয় করে ব্যবসা করা উদ্দেশ্য নয়। এই জল নুন্যতম দামে পাওয়া যাবে। বাজারের যেকোনো নামী কোম্পানীর জল খেয়ে দেখুন, আর এই জল খেয়ে দেখুন। জনগণকে আর্সেনিক মুক্ত বিশুদ্ধ জল পৌছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
Written By Parna Banerjee.

সুখবর বাংলা

Leave a Comment

Advertisement